ভারতে উচ্চশিক্ষার জন্য হাজারো বিকল্প থাকলেও, আসাম ডাউন টাউন ইউনিভার্সিটি (ADTU) ধীরে ধীরে নিজেকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের জায়গা হয়ে উঠছে। কিন্তু কেন? চলুন একটু গভীরভাবে দেখি।
১. গুণগত শিক্ষা, কিন্তু খরচ কম
ADTU-তে শিক্ষার মান অনেক ভালো, অথচ খরচ তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশের নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেই ফি দিতে হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচেই এখানে পড়া যায়। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়ায়, বিনিয়োগটা পুরোপুরি সার্থক।
২. ক্যাম্পাস লাইফ ও সুযোগ-সুবিধা
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য দারুণ সহায়ক। আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি, ডিজিটাল ক্লাসরুম—সবকিছু আছে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী থাকায়, একটা গ্লোবাল পরিবেশ তৈরি হয়। নতুন সংস্কৃতি শেখার, নেটওয়ার্ক তৈরির এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ এখানে সত্যিই অসাধারণ।
৩. বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ সুযোগ
অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসে, ফলে মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয় না। ভাষাগত সমস্যা নেই, খাবার-দাবারেও মিল পাওয়া যায়। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সহায়তা প্রদান করে, যা অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় না।
৪. পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার প্রস্তুতি
এখানে শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই হয় না, বরং হাতে-কলমে শেখার সুযোগও আছে। ইন্ডাস্ট্রি-সংযুক্ত কোর্স, ইন্টার্নশিপ, এবং প্লেসমেন্ট সুবিধা থাকায়, ডিগ্রি শেষ করার পর চাকরি পাওয়া অনেক সহজ হয়। ভারতে, এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও চাকরির ভালো সুযোগ মেলে।
৫. নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ
বিদেশে পড়তে গেলে নিরাপত্তা ও পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোহাটি শহরের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক নিরাপদ, বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য। আবাসিক ব্যবস্থাও ভালো, আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো আছেই!
শেষ কথা
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আসাম ডাউন টাউন ইউনিভার্সিটি শুধু একটা বিকল্প নয়, বরং দারুণ সুযোগ। মানসম্পন্ন শিক্ষা, কম খরচ, নিরাপদ পরিবেশ আর ভবিষ্যতের ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ—সব মিলিয়ে এটা সত্যিই একটা বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হতে পারে। যারা বিদেশে ভালো মানের ডিগ্রি নিতে চায়, কিন্তু বাজেট ও মানের মধ্যে একটা ভারসাম্য খুঁজছে, তাদের জন্য ADTU হতে পারে সেরা গন্তব্য।